প্রকাশিত: Thu, Jul 27, 2023 10:29 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 7:27 AM

[১]রাজধানী একই সঙ্গে বড়ো দুটি দলের সমাবেশের চাপ নিতে সক্ষম কি না, ভেবে দেখার তাগিদ সুধীজনদের

এল আর বাদল: [২] বৃহস্পতিবার দিনভর নাটকের পর সমাবেশের স্থান নিয়ে সুখবর পেলো আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শান্তি সমাবেশ করতে ক্ষমতাসীন দলের ৩ সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ তাদের পছন্দের জায়গা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুমতি পেয়েছে। বিএনপিকেও পছন্দের স্থান নয়াপল্টনের পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দিলো ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

[৩] দুপুর ২টায় দুই দলের সমাবেশ শুরু হবে। সমাবেশ ঘিরে যেনো মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। রাজপথ দখলে রাখতে দুই দলই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দুই দলের কর্মসূচি নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে।

[৪] সমাবেশ শুরুর আগেই সরকারের বেপরোয়া আচরণে বিএনপি যারপরনাই ক্ষুদ্ধ বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার অভিযোগ, ইতোমধ্যে সারা দেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সরকারের এই ফ্যাসিবাদী আচরণে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সরকার পতনের একদফা আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতেই এই সমাবেশ।   

[৫] আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল বলেন, শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে দেশের সর্বস্তরের তরুণ-যুবসমাজ উন্মুখ হয়ে আছে। তরুণ সমাজের ঢল নামবে। কত লোক হবে, এর হিসাব মেলানো যাবে না। বাংলার মাটিতে জিয়ার সৈনিকদের আর কোনো স্থান দেওয়া যায় না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।  

[৬] এই টানটান উত্তেজনায় কিছুটা উদ্বিগ্ন বিএনপি। তারা পুলিশের কঠোর অবস্থানে থাকার ঘোষণার পরও নাশকতার আশঙ্কা করছে। আর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগ বলছে, যে কোনো মূল্যে রাজপথ দখলে রাখা হবে।

[৭] তবে ডিএমপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিএনপির মহাসমাবেশ কিংবা আওয়ামী লীগের শান্তিসমাবেশ থেকে কোনো প্রকার উস্কানিমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। এ জন্যে ২৩টি শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, প্রথমত, আমরা বিএনপি-আওয়ামী লীগের চৌহদ্দি নির্ধারণ করে দিয়েছি। 

[৮] বিএনপির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নাইটিঙ্গেলের মোড় থেকে পুলিশ হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত জায়গার মধ্যে তাদের সমাবেশ ও মাইকিং ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তারা মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে পশ্চিমের মুক্তাঙ্গন পর্যন্ত তাদের সমাবেশ ও মাইকিং ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

[৯] তিনি বলেন, দুই দলের ক্ষেত্রেই আমাদের পক্ষ থেকে নির্দেশ-অনুরোধ থাকবে, তারা কোনো লাঠিসোটা কোনোভাবেই সমাবেশে আনতে পারবে না, কোনো ব্যাগ বহন করতে পারবে না এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো বক্তব্য প্রচার করতে পারবে না। 

[১০] তিনি বলেন, ২ দলের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, কোনো দলই আইন-শৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার মতো কোনো কাজ করবে না। যদি যেকোনো দলের পক্ষ থেকেই এ ধরনের কোনো বিষয় দেখি, আমরা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

[১১] এদিকে দুই দলের কর্মসূচী নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে। সাংগঠনিক শক্তির জানান দিচ্ছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। একই দিনে প্রধান দুটি দলের সমাবেশের জন্য রাজধানী ঢাকা কতটা উপযুক্ত সে বিষয়টি ভাবার দাবি রাখে। সবকিছু ছাপিয়ে তাদের প্রত্যাশা, রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দক্ষ হাতে সবকিছু মোকাবিলা করবে।

[১১] সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রীতিমতো যুদ্ধের দামামা বাজতেছে। উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে দুই দলের মাঝেই। তাদের এমন আচরণে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত অপরিহার্য। তবে এসব উত্তাপ-উত্তেজনা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করতে পারে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব